সুমন বটব্যাল, কলকাতা: স্বজনপোষণের গুরুতর অভিযোগ উঠল শাসকদলেরই পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে৷ অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘মিশন নির্মল বাংলা’য় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ফেসিলেটর পদে নিয়োগের জন্য বিডিওর কাছে স্বামীর নাম লিখিতভাবে সুপারিশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধান৷ এমনকি, ওই প্রধানের এ হেন ‘অন্যায় আবদার’ বিডিও অনুমোদন করেছেন বলেও অভিযোগ৷
পঞ্চায়েত ভোটের মুখে শাসকদলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে এ হেন স্বজনপোষণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়-এক নম্বর ব্লক এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে৷ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান স্বপ্না নস্কর এ বারও দলের টিকিট পেতে চলেছেন৷ যা নিয়ে দলের অন্দরেই কোন্দল চরম আকার নিয়েছে৷
প্রশাসন সূত্রের খবর, ভাঙড়-এক পঞ্চায়েত সমিতির শাঁকসহর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বপ্না নস্কর ২০১৫-র ১৮ অগস্ট বিডিওকে নিজের প্যাডে লেখা চিঠিতে ফেসিলেটর পদে নিয়োগের জন্য স্বামীর নাম সুপারিশ করেছিলেন৷ চিঠিতে বিডিওর উদ্দেশ্যে প্রধান লেখেন, ‘‘শাঁকসহর গ্রাম পঞ্চায়েতে ফেসিলেটর হিসেবে প্রশান্ত কুমার নস্কর, পিতা: কৃষ্ণপদ নস্করের নামটি প্রেরিত হইল৷’’ অভিযোগ, প্রধানের ওই চিঠি অনুমোদনও করে দেন বিডিও৷ ফলে তখন থেকে দিব্যি সংশ্লিষ্ট পদে চাকরি করছেন প্রধানের স্বামী প্রশান্ত নস্কর৷
আড়াই বছর আগের এ হেন স্বজনপোষণ ভোটের মুখে প্রকাশ্যে আসায় দলের অন্দরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে৷ দলের একাংশ নেতা-কর্মী প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতার অলিন্দে থেকে স্বামীর নাম সুপারিশ করা কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? বিডিওর ভূমিকা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন৷ সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের যুব তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি ইশাহক মোল্লার অভিযোগ, ‘‘এমন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানের কীর্তিকলাপে এলাকায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে৷’’
আক্ষেপের সুরে যুব তৃণমূল কর্মী ইশাহক বলছেন, ‘‘কোনও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তলে তলে এভাবে পঞ্চায়েতে কর্মী নিয়োগ হল৷ প্রধানের সেই সুপারিশ অনুমোদন করে দিলেন বিডিও৷ এর থেকেই তো স্পষ্ট বিশাল অংকের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে বেআইনিভাবে প্রধানের স্বামীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ‘‘এটি প্রথম নয়, এর আগেও ওই পঞ্চায়েতে একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারিতে প্রধান স্বপ্না নস্করের নাম জড়িয়েছে৷ আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত৷ যার কয়েকটি এখনও অমীমাংসিত৷’’
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভাঙড়-এক ব্লকের বিডিও সৌগত পাত্র কোনও মন্তব্য করতে চাননি৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিষয়৷ কোনও মন্তব্য করতে পারব না৷’’ স্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে পঞ্চায়েতের ফেসিলেটর পদে নিযুক্ত প্রশান্ত নস্করও কোনও মন্তব্য করতে চাননি৷ তবে অভিযুক্ত প্রধান স্বপ্না নস্কর দাবি করেছেন, ‘‘আমি সব দিক খতিয়ে দেখে ফেসিলেটর পদে যোগ্য ব্যক্তির নামই সুপারিশ করেছি৷ ঘটনাচক্রে উনি আমার স্বামী৷’’
কোনও রকম বিজ্ঞপ্তি না ডেকে এ ভাবে সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ করা যায় কি না, এই প্রশ্নের অবশ্য কোনও সদুত্তর মেলেনি প্রধানের কাছ থেকে৷ তবে, এই বিষয়টি বিস্তারিত শোনার পর শাসকদলের ভাঙর-এক ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কাইজার আহমেদের দাবি, ‘‘এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই৷ তাই কোনও মন্তব্য করব না৷’’ সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসকদলের অঞ্চল সভাপতি রফিক মোল্লা বলেছেন, ‘‘এখন ভোটের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি৷ পরে কথা হবে৷’’
ভোটের মুখে দলীয় অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে এ হেন স্বজনপোষণের অভিযোগ শুনে মেজাজ হারিয়েছেন দলের ব্লক সভাপতি সাজাহান মোল্লা৷ তাঁর সাফ কথা, ‘‘আমরা তো অনেক ভালো কাজও করি৷ সেদিকে তো আপনাদের কোনও নজর পড়ে না৷ শুধুই কুৎসা করা কাজ৷ আমি এ বিষয়ে কোনও কোনও কথা বলব না৷’’ স্বজনপোষণের ঘটনায় দলের অন্দরে যারপরনাই ক্ষুব্ধ ইশাহক মোল্লারা বলতে শুরু করেছেন, এ ভাবে একাংশ জনপ্রতিনিধি স্বজনপোষণ করে যাবেন, আর নেতারা চুপ করে বসে থাকবেন৷ ফের সেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানকেই টিকিট দেওয়া হবে৷ এমনটা মানুষ কিন্তু বেশিদিন মেনে নেবেন না৷
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে৷ তিনি বলেন, ‘‘এমন কোনও বিষয় আমার জানা নেই৷ তবে এই ধরনের ঘটনা হয়ে থাকলে তা কাম্য নয়৷ অভিযোগ পেলে নিশ্চয় খতিয়ে দেখা হবে৷’’ ক্ষুব্ধ কর্মীরা অবশ্য বলছেন, এ তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র৷ এমন হাজারও দুর্নীতির পাহাড়ের জেরে ধিকি ধিকি করে মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভের পারদ৷
The post চাকরিতে স্বামীর নামই সুপারিশ, অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান appeared first on Kolkata24x7 | Breaking Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India and World.
from Kolkata24x7 | Breaking Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India and World https://ift.tt/2EjTUTv
No comments:
Post a Comment